মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও ইতিহাসে নম্বর বাড়ানোর সেরা টিপস

 

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ইতিহাসে নম্বর বাড়ানোর সেরা  টিপস: নলেজ



) প্রথমেই তোমাদের বলি যে, সম্পূর্ণ বইটা (পাঠ্য বই) ভালোভাবে পড়ে রাখো।

সিলেবাসে দেওয়া প্রতিটি বিষয়বস্তু সম্পর্কে ন্যূনতম টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তোমাকে মনে

রাখতে


উদাহরণ স্বরূপ

 দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ সংস্কার: বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা। এই অধ্যায়টিকে মোট টি অংশে ভাগ

করে তার বিষয়বস্তুর আলোচনা করা হয়েছে। 

প্রথম অংশ . উনিশ শতকের বাংলা- সাময়িকপত্র, সংবাদপত্র সাহিত্যে সমাজের

প্রতিফলন। এতে আলোচিত হয়েছে- বামাবোধিনী, হিন্দু প্যাট্রিয়ট এবং হুতোম প্যাঁচার

নকশা, নীলদর্পণ, গ্রামবার্তা প্রকাশিকা। এবার তোমার কাজ হল, এক একটা বিষয়ে

ন্যূনতম পাঁচটি তথ্য মনে রাখা।

 

যেমন- বামাবোধিনী:


(i)
পরিচিতিউনিশ শতকের বাংলায় প্রকাশিত বিভিন্ন সাময়িকপত্রের মধ্যে একটি

গুরুত্বপূর্ণ সাময়িকপত্র হলবামাবোধিনী এই সাময়িকপত্রে উনিশ শতকের বাংলার

নারী তৎকালীন সমাজজীবনের নানান চালচিত্র প্রস্ফুটিত হয়েছে।

(এই লেখাটা / / ৮নম্বরের প্রশ্নের উত্তরের শুরুতে সূচনা বা ভূমিকা রূপে লেখা যায়)


(ii) প্রকাশক প্রকাশকাল: উমেশচন্দ্র দত্তের সম্পাদনায় বামাবোধিনী পত্রিকাটি প্রথম

প্রকাশিত হয় ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে।


(iii) নামকরণ (সবক্ষেত্রে নামকরণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়): ‘বামাকথার অর্থসমগ্র

নারিজাতি নারীদের শিক্ষা এবং সামাজিক অগ্রগতির লক্ষ্যে প্রকাশিত হওয়ায় কারণে

পত্রিকার নামকরণ করা হয়বামাবোধিনী


(iv) সাময়িকপত্রের বিষয়বস্তু: নারীশিক্ষা নারীদের সামাজিক অগ্রগতির পাশাপাশি

ইতিহাসতত্ত্ব, ভূগোল, বিজ্ঞান বিষয়ক জ্ঞান, নীতি-ধর্ম, পশুপালন, গৃহ চিকিৎসা,

শিল্পকর্ম, ভাষা জ্ঞান ইত্যাদি বিষয়গুলি ছিল বামাবোধিনী পত্রিকার আলোচ্য বিষয়বস্তু।


(v) প্রাসঙ্গিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে উমেশচন্দ্র দত্ত বামাবোধিনী সভা

প্রতিষ্ঠা করেন। লাবণ্য প্রভা বসু স্বর্ণপ্রভা বসু ছিলেন বামাবোধিনী পত্রিকার দুই

খ্যাতনামা লেখিকা।

 

) টেস্ট পেপার বা অন্য কোনও প্রশ্নের বই থেকে প্রশ্ন অনুযায়ী উত্তরগুলো (ছোট, বড়

সব) লেখা সময় ধরে লাগাতার প্র্যাকটিস করে যাও, সুফল পাবে।


) মূল পরীক্ষা (মাধ্যমিক) দেওয়ার আগে যতবার মকটেস্ট দিবে তুমি নিজেকে ততই

নিখুঁত গতিশীল করে তুলতে সমর্থ হবে। এতে উত্তর লেখার সময় ভুল বা আটকে যাওয়া

রোধ হবে। মনে রেখো, প্রতিবারের পরীক্ষা (মকটেস্ট) তোমার মাধ্যমিকে নম্বর বৃদ্ধিতে

একধাপ এগিয়ে দেবে তোমাকে।


) টেস্ট পেপারে কয়েকটি প্রশ্নপত্র মূল্যায়ন করার পর দেখবে, কিছু প্রশ্ন বারবার কমন

পড়ে যাচ্ছে। এগুলোকে অনেক শিক্ষার্থী গুরুত্বপূর্ণ সাজেশন ভেবে নেয়, আর শুধুমাত্র

সেই প্রশ্নের উত্তরগুলো পড়ে পরীক্ষা দিতে চলে যায়। এইরকম ভুল মোটেও করোনা।

টেস্ট পেপার মাধ্যমিক পরীক্ষাকে সহজ করার জন্য প্রস্তুতি স্বরূপ ব্যবহার কর, ওটাকে

সাজেশন বই ভেবো না। সাজেশন বই পড়ে পাশ তো করা যায়, কিন্তু দৃষ্টান্তমূলক নম্বর

পাওয়া যায় .


)  নম্বরের প্রশ্নের উত্তর (২০+১৬) লেখার সময় ক্রমান্বয়ে দাগ নম্বর উল্লেখ করে

শুধুমাত্র উত্তরটাই লিখবে। প্ৰশ্ন তুলতে গিয়ে অযথা সময় নষ্ট করবে না।


)  নম্বরের উত্তর (যেকোনো ১১টি) লেখার সময় দাগ নম্বর, প্রশ্নের শিরোনাম উল্লেখ

করে তার নিচের লাইনে দু-তিনটি বাক্যে যথাযথ উত্তর (যে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে)

লিখলেই পুরো নম্বর পেয়ে যাবে।


নম্বরের উত্তর (প্রশ্নের নির্দেশ মেনে মোট ৬টি উত্তর) লেখার সময় দাগ নম্বর, প্রশ্নের

শিরোনাম উল্লেখ করে সূচনা মূল্যায়ন সহ টি মতো প্যারা বা অনুচ্ছেদ দিয়ে উত্তর

সমাপ্ত করবে।


) মনে রেখো, ৯০ নম্বরের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার অদম্য মানসিক শক্তি থাকা একান্ত

আবশ্যক। অনেকেই বড় প্রশ্নের উত্তর লিখতে পারে না। ধরে নিলাম তুমি সেরকমই

একজন সাধারণ মানের পরীক্ষার্থী। তুমি বড় প্রশ্নের উত্তর একদম ছেড়ে না দিয়ে কম

কথা লিখেও তোমার প্রাপ্য নম্বর বাড়িয়ে নিতে পারো।

 

এক্ষেত্রে তুমি যা করবে- প্রথমে প্রশ্নের দাগ নম্বর দিয়ে একটা শিরোনাম লিখে দাও।

এরপর যে বিষয়টি সম্পর্কে জানার জন্য তোমাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, তার একটি সুন্দর

বর্ণনা দিয়ে সূচনা/ ভূমিকা তৈরি কর। এরপর প্রশ্নটার বিষয়বস্তু সম্পর্কে যা মনে পড়ছে

(এজন্যই আগে বলেছি, সিলেবাসে দেওয়া প্রতিটি বিষয়বস্তু সম্পর্কে ন্যূনতম টি

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মনে রাখতে হবে), তা দিয়েই একটা বা দুটো বাক্য দিয়ে - টা অনুচ্ছেদ

(- ৮টি বাক্যে) তৈরি করে (শিরোনাম না দিলেও চলবে) শেষে মূল্যায়নে সব কথাকে

প্রশ্নের মতো করে উত্তর মিলিয়ে দিলেই ব্যাস! নম্বরের (১টি) প্রশ্নের উত্তরেও একই

নির্দেশ ফলো করতে পারো।

 

) সাধারণত নম্বরের প্রশ্নের উত্তরের জন্য মিনিট, নম্বরের জন্য মিনিট,

নম্বরের জন্য ১০ মিনিট আর নম্বরের প্রশ্নের উত্তরের জন্য ২০-২৫ মিনিট সময়

নির্ধারণ করে উত্তর লেখা প্র্যাকটিস কর।


পরীক্ষা হলে প্রথম ঘন্টা নম্বরের প্রশ্নের উত্তরের জন্য, দ্বিতীয় ঘন্টা নম্বরের

প্রশ্নের উত্তরের জন্য শেষ তৃতীয় ঘন্টা নম্বরের প্রশ্নের উত্তর লেখা, খাতা বাঁধা

সম্পূর্ণ খাতা মূল্যায়নের (বিশেষ করে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর) জন্য সময় বরাদ্দ করে

রাখো।

 

১০) উত্তরপত্রে কাটাকাটি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। হস্তাক্ষর, বানানের দিকে লক্ষ্য

রাখতে হবে। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন উত্তরপত্র তোমার সাফল্যকে সুনিশ্চিত করবে।মাধ্যমিক

 ইতিহাসে নম্বর বাড়ানোর  টিপস, শেষ মুহূর্তে এইভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে

 

 


Tags

Post a Comment

0 Comments