-->

Ads Area

মুত্তিয়া মুরালিধরন জীবনী | Muttiah Muralitharan Biography in Bengali

 

মুত্তিয়া মুরালিধরন জীবনী | Muttiah Muralitharan Biography in Bengali

Muttiah Muralitharan Biography in Bengali

মুত্তিয়া মুরালিধরন ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সর্বসেরা স্পিন বোলারদের মধ্যে অন্যতম একজন খেলোয়াড়। শ্রীলংকান এই অফ ব্রেক লেগ স্পিনার বোলার ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক।

তিনি টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম বোলার হিসেবে ৮০০ উইকেটের  মালিকানা   অর্জন করেছেন যা সর্বকালের সেরা রেকর্ড। আর ওয়ানডে ক্রিকেটে তার উইকেট সংখ্যা ৫৩৪ টি যা ওয়ানডে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ উইকেট মুত্তিয়া মুরালিধরন এর  । তিনি ওয়ানডে আর টেস্ট ক্রিকেট মিলিয়ে ১৩৩৪ উইকেটের মালিক যা ক্রিকেট বিশ্বে প্রথম।

মুত্তিয়া মুরালিধরন ক্রিকেট মুত্তিয়া মুরালিধরন বিশ্বের এমন একটি নাম যার বোলিংয়ে বিশ্বে সব বড় বড় খেলোয়াড় ধরাশায়ী হয়েছেন ও শ্রীলংকান দলের অনেক ম্যাচ জয়ের প্রধান কারিগর হয়ে ইতিহাস রচনা করেছেন।




Muttiah Muralitharan Biography in Bengali

Born               Apr 17, 1972 (49 years)

Birth Place     Kandy

Height            5 Ft 7 in

Role               Bowler

Test debut      Aug 28, 1992

Last Test        Jul 18, 2010

ODI debut       Aug 12, 1993

Last ODI         Apr 12, 2011

Batting Style   Right Handed Bat

Bowling Style  Right-arm off-break


প্রাথমিক ও ব্যাক্তিগত জীবন – Personal Life

মুরালিধরন জন্মগ্রহণ করেন ১৭ এপ্রিল ১৯৭২ সালে শ্রীলংকার ক্যান্ডিতে, শ্রীলংকার পার্বত্য অঞ্চলের এক তামিল হিন্দু পরিবারে তার জন্ম হয়। তার পিতার নাম সিন্নাসামি মুত্তিয়া ও মা লক্ষ্মী মুত্তিয়া চার ভাইয়ের পরিবারে তিনি বড় ছেলে।

মুত্তিয়া মুরালিধরনের পিতামহ, পেরিয়াসামি সিনসামি, 1920 সালে মধ্য শ্রীলঙ্কার চা বাগানে কাজ করতে দক্ষিণ ভারত থেকে শ্রীলংকায় এসেছিলেন। সিনাসামি পরে তার কন্যাদের সাথে তার দেশে ফিরে আসেন এবং ভারতের তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লীতে বসতি স্থাপন করেন 

তবে, মুরালিধরনের বাবা মুত্তিয়া সহ তার ছেলেরা শ্রীলঙ্কায় থেকে যান। তার বাবা সেখানে একজন সফল ব্যাবসায়ী তার বিস্কুটের ফ্যাক্টরি রয়েছে যা তিনি সফলভাবে পরিচালনার মাধ্যমে আরো প্রসারিত করেছেন।

মুরালিধরন ২১ মার্চ ২০০৫ সালে ভারতের চেন্নাইয়ের বাসিন্দা মাধীমালার রামামূর্তিকে বিয়ে করেন, মাধীমালার রামামূর্তির পিতা ছিলেন প্রয়াত ডাঃ এস. রামমূর্তি যিনি ছিলেন মালার হাসপাতালের সিনিয়র ডাক্তার আর তার স্ত্রীর নাম ডাঃ নিথ্যা রামমূর্তি। মুরালিধরন ২০০৬ সালে প্রথম সন্তানের পিতা হন তার ছেলের নাম রাখেন নরেন মুরালিধরন।


প্রারম্ভিক কর্মজীবন - Early Careers

যখন তার বয়স নয় বছর, মুরালিধরনকে ক্যান্ডির সেন্ট অ্যান্থনি কলেজে দেয়া হয়, যেটি বেনেডিক্টাইন সন্ন্যাসীদের দ্বারা পরিচালিত একটি বেসরকারি স্কুল। সেখানে তিনি একজন মাঝারি পেস বোলার হিসেবে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু করেন। কিন্তু তার স্কুল কোচ সুনীল ফার্নান্দোর পরামর্শে তিনি চৌদ্দ বছর বয়সে অফ-স্পিন অনুশীলন করতে শুরু করেন। 

তার বোলিংয়ে কোচ সুনীল ফার্নান্দো শীঘ্রই মুগ্ধ হন এবং স্কুলের প্রথম একাদশে চার বছর তাকে খেলানো হয় । মুরালিধরন তখন অলরাউন্ডার হিসেবে ক্রিকেট খেলতেন এবং মিডল অর্ডারে ব্যাট করতেন। সেন্ট অ্যান্টনি’স কলেজে তার শেষ দুই মৌসুমে তিনি একশোর বেশি উইকেট নিয়েছিলেন এবং 1990 সালে ‘বাটা স্কুলবয় ক্রিকেটার অফ দ্য ইয়ার’ হিসেবে মনোনীত হন।

এরপর তিনি শ্রীলংকার তামিল ইউনিয়ন ক্রিকেট এবং অ্যাথলেটিক ক্লাবের হয়ে খেলেন এবং 1991 সালে শ্রীলঙ্কার ইংল্যান্ড সফরের জন্য নির্বাচিত হন। সেখানে পাঁচটি ম্যাচ খেলে তিনি একটিও উইকেট অর্জন করতে পারেন নি।

টেস্ট ক্রিকেট ক্যারিয়ার

মুরালিধরনের স্পিন বোলিংয়ের চমক প্রথম দেখা যায় অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বতে  অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল যখন ১৯৯২ সালে শ্রীলংকা সফরে আসে। তাদের বিরুদ্ধে একটি অনুশীলন ম্যাচে মুরালিধরনের বোলিং সকলকে অবাক  করে। আর সেই টেস্ট সিরিজের দৃতীয় ম্যাচে তার শ্রীলংকার জাতীয় দলের খেলোয়াড় হিসেবে টেস্টে সুযোক  হয় প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

মুরালিধরনের টেস্টে ৭৫০ তম উইকেটের শিকার হন ভারতের সর্বকালের সেরা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ও ক্যাপ্টেন সৌরভ গাঙ্গুলী দাদা। আর তার সর্বশেষ ও ৮০০ তম উইকেটটি তিনি পান টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ ওভারের শেষ বলে ব্যাটসম্যান ছিলেন ভারতের প্রজ্ঞান ওঝা ক্যাচ আউট টি তালুবন্দী করেন শ্রীলংকার বর্ষীয়ান ক্যাপ্টেন মাহেলা জয়বর্ধনে।

বোলিং বিতর্ক – Bowling Debate 

জন্মগত ভাবে তার হাতের হাইপার এক্সটেনশন এর কারণে মুরালিধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্যারিয়ার কিছুটা বিতর্কের মধ্যে পরে যখন তার বোলিং একশন নিয়ে বিভিন্ন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ ও আম্পায়াররা প্রশ্ন তোলেন। তাকে তার ক্যারিয়ারে মোট ২ বার ১৯৯৬ এবং ১৯৯৯ সালে সিমুলেটেড প্লেয়িং কন্ডিশনের অধীনে বায়োমেকানিক্যাল বিশ্লেষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল তার বোলিংকে স্বীকৃতি দেয়।

মুরালিধরনের বিশ্ব রেকর্ড

  • টেস্টে ৮০০ উইকেট যা তিনিই সর্ব সেরা প্রথম ও অদ্বিতীয়।
  • একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনিই সর্বাধিক ৫৩৪ উইকেটের মালিক।
  • সবধরণের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার উইকেট সর্বোচ্চ (টেস্ট, ওয়ানডে, টি ২০) মোট ১৩৪৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
  • টেস্ট পর্যায়ে এক ইনিংসে তিনি সবচেয়ে বেশিবার ৫ উইকেট শিকার করেছে (৬৭) বার।
  • সবথেকে বেশি দেশের বিপক্ষে তার এক ইনিংসে ৭ উইকেট শিকার রয়েছে (৫) পাঁচ দেশের বিপক্ষে।
  • প্রতিটি টেস্ট খেলা দেশের বিপক্ষে তার উইকেট প্রাপ্তি সর্বনিন্ন ৫০ বা তারও উপরে উইকেট নেন।
  • মুরালিধরন টেস্ট ক্রিকেটে সবচাইতে বেশিবার ম্যান অফ দা সিরিজের সম্মান পান।
  • একমাত্র খেলোয়াড় যিনি বোলিংয়ে টানা চার টেস্ট ম্যাচে 10 উইকেট নেন। এই কৃতিত্ব তিনি আরও একবার করেন মোট দুইবার।
  • আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সবথেকে বেশিবার ৫ উইকেট পান ।
  • টেস্ট ইতিহাসের মাত্র ছয়তম বোলার একজন যিনি টেস্ট ম্যাচে ১১ টি উইকেট নিয়েছিলেন।
  • আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচাইতে বেশিবার বোল্ড আউট করা বোলার।
  • আন্তর্জাতিক খেলায় সবচাইতে বেশি বল করেছেন। মুরালিধরন মোট ৬৩১৩২টি বল করেছেন।
  • টেস্ট ক্রিকেটে সব বোলারের চাইতে বেশি বল করেছেন (৪৪০৩৯) বার।


Post a Comment

0 Comments

Ads Area